২০২৯ সাল

৬০০ কোটি ডলারের অস্ত্র রফতানির লক্ষ্য ভারতের

ইউক্রেনের পরে বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ ভারত। সমরাস্ত্র খাতে সম্প্রতি নতুন এক উদ্যোগের পরিকল্পনা করেছে দেশটি।

ইউক্রেনের পরে বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ ভারত। সমরাস্ত্র খাতে সম্প্রতি নতুন এক উদ্যোগের পরিকল্পনা করেছে দেশটি। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছর ৬০০ কোটি ডলারের অস্ত্র রফতানি করতে চায় তারা। মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (এক্সিম) মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পাচ্ছে এমন দেশে অস্ত্র রফতানি বাড়াতে চায় ভারত। খবর দ্য হিন্দু।

সরকারি এ তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিদেশী দূতাবাসগুলোয় প্রতিরক্ষাবিষয়ক কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। কিছু অস্ত্র চুক্তিতে সরকার সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবে বলে পরিকল্পনা হয়েছে। মূলত রাশিয়ার অস্ত্রের ওপর নির্ভর করে এমন দেশগুলোকে লক্ষ্য করে এ উদ্যোগ নিচ্ছে দিল্লি।

ভারত এরই মধ্যে উন্নতমানের যুদ্ধ সরঞ্জাম ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার। এছাড়া বিদেশী প্রতিনিধিদের দেশীয় অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে বৈঠকে সহায়তা করছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির লক্ষ্য ঠিক করে ভারত। তবে এ লক্ষ্যের এক-তৃতীয়াংশ কম অর্জন হয়েছিল। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এক দশক আগে ২৩ কোটি ডলার রফতানির তুলনায় এটা বড় অগ্রগতি। এখন ভারত সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে অস্ত্র ও সরঞ্জাম রফতানির পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৬০০ কোটি ডলার করার লক্ষ্য নিয়েছে।

বলা হচ্ছে, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ১৫৫ মিমি গোলাবারুদ প্রতি ইউনিট মাত্র ৩০০-৪০০ ডলারে তৈরি করতে পারে, যেখানে ইউরোপীয় দেশগুলোয় এর দাম পড়ে ৩ হাজার ডলারের বেশি।

দেশটির বেশির ভাগ ব্যাংক উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ঋণ দিতে চায় না, ফলে ভারত বড় অস্ত্র চুক্তিতে ফ্রান্স, তুরস্ক ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে ছিল। কিন্তু এবার এগিয়ে এসেছে এক্সিম ব্যাংক। আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ব্রাজিলে অফিস খুলেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির জন্য আলোচনা করছে। এছাড়া ব্রাজিলের জন্য যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন বাজার গড়ে তুলতে চায় ভারত। আগামী মার্চের মধ্যে ২০টি দেশে নতুন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা পাঠানো হবে, যাদের দায়িত্ব হবে ভারতীয় অস্ত্র সম্পর্কে প্রচার ও স্থানীয় চাহিদা বিশ্লেষণ করা।

২০২৩ সালে আর্মেনিয়ার ভারতীয় দূতাবাসে প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। এরপর রাশিয়ার একচেটিয়া অস্ত্র সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেয় দেশটি। ২০২২-২৪ সালে আমদানি করা অস্ত্রের ৪৩ শতাংশ ভারত থেকে সংগ্রহ করে আর্মেনিয়া।

আরও